মার্কেটপ্লেসের বাইরে ফ্রিলেন্স ক্যারিয়ার … (পর্ব – ২)

পর্ব – ১ এর পর থেকেঃ

কিভাবে খুঁজে নিব প্রথম ক্লাইন্টঃ

এখন সবার প্রথমে আমরা কোথা থেকে শুরু করতে পারি?  যে জায়গা গুলিতে আমরা সহজে পৌঁছাতে পারি, সেখান থেকেই শুরু করা যাক … যেমন – ফ্যামিলি, ফ্রেন্স, আমাদের স্কুল, কলেজ, ইউনিভারসিটি, আমাদের আশেপাশের পরিচিত মানুষজন। তাদেরকে জানাতে হবে আমারা কি ধরনের কাজ করছি, এবং কি ধরনের সেবা আমরা প্রদান করতে পারি। উনারাই হবেন আমার প্রথম রেফারাল। এছাড়াও যারা জানেন আমরা ফ্রিলেন্সিং কাজের সাথে যুক্ত, তাদেরকে আমাদের সার্ভিস সম্পর্কে জানানোটা আমাদের জন্যে জরুরি।

I’ve started a new freelance company, where we provide services like – (Your Service detail). If you know anyone who needs this services, please let me know – I’d love to provide my best services!

এই ধরনের কিছু ম্যাসেজ আমরা সেন্ড করতে পারি আমাদের প্রথম দিকের রেফারালদের। এভাবে আমরা প্রথমে কন্টাক্টস তৈরি করে নিতে পারি। এবং লোকাল সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কাজ শুরু করতে পারি। অথবা ইন্টান্যশনালি কন্টাক্টস তৈরি করতে পারলে আমরা  ইন্টান্যশনাল কিছু কাজও পেতে পারি।

এই উপায়ে ক্লাইন্টের সাথে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। প্রথমত আমাদেরকে ক্লাইন্টের বিজনেস বুঝতে হবে। সম্ভব হলে ক্লাইন্টের কন্টাট নাম্বার, ইমেইল আইডি যোগাড় করতে পারি। মনে রাখতে হবে, আমরা একটি কোম্পানির শুধু মাত্র তার সঙ্গেই যোগাযোগ করবো যিনি আমাকে হায়ার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে যদি সেটা ছোট কোম্পানি হয়, তাহলে কোম্পানির মালিকের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে, আর বড় কোম্পানি হলে মার্কেটিং ডিরেক্টরের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। তবে আমাদেরকে সবার প্রথমে কোম্পানি ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিতে হবে কার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করবো।

সম্ভাব্য ক্লাইন্ট খুঁজে পেলে তাদের একটা লিস্ট তৈরি করবো। এবং তার বিজনেস সম্পর্কে ভালভাবে রিসার্চ করবো। প্রথমে আমাদের জানতে হবে আমরা কিভাবে তার বিজনেসে হেল্প করতে পারবো। তার মানে আমরা প্রথমে দেখবো তার বিজনেসের কোন কোন ক্ষেত্রে  আমাদের সার্ভিস দিয়ে আমরা তাকে উপকৃত করতে পারবো। সে সব পয়েন্ট গুলি নোট করবো। এবং চেষ্টা করবো কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করা ব্যাক্তিটির সামনে এই সব পয়েন্ট গুলি তুলে ধরতে।

রিসার্চ শেষ হলে এবার আমরা  একজন একজন করে  তাদের সাথে  যোগাযোগ করার চেষ্টা করবো। ক্লাইন্টের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করবো সেটা অনেক বড় একটা বিষয়। মনে রাখতে হবে যদি আমরা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করি। কখনোই অপ্রাসঙ্গিক বা অনুপযুক্ত কোন ম্যাসেজ দেয়া যাবে না। এবং মনে রাখতে হবে কখনোই নিজের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে না। শুধু মাত্র আমরা কিভাবে তাদের বিজনেসে হেল্প করতে পারবো সেটা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

কিছুটা এমন হতে পারে …

Hi [Client name],

I hope all is well. My name is [Your Name] and I’m a freelance graphic designer in Bangladesh.

I specialize in logo design, t-shirt design, and website design. If you’d like, you can read more about me on my about page. [Here’s where you can be specific with your services in relation to how you can help.]

I’m contacting you to determine whether you have any occasional or ongoing need for the services I provide above.

You can view some of my work here:
[Link to your portfolio, dribble, or list one–two links that are relevant to the type of work you’d be doing for them.]

If you’d like to chat further or have any questions for me, please don’t hesitate to ask.

Thanks for your time!

All the best,
[Your Name]

 

এই ধরনের ম্যসেজ আমাদের ক্লাইন্টের সাথে সফল ভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে। তবে আমরা যদি আরও একটু স্পেসিফিক আলোচনা করতে চাই, তাহলে আমরা ক্লাইন্টের বিজনেসের ল্যাকিংস গুলি তুলে ধরতে পারি, এবং কিভাবে আমরা আমাদের সার্ভিস দিয়ে তার বিজনেসের প্রফিট বাড়াতে পারি, সেটা আলোচনা করতে পারি।

যখন আমরা আমাদের প্রথম ক্লাইন্ট পেয়ে যাব, চেষ্টা করবো সফল ভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে এবং মনে রাখতে হবে, এখন থেকেই আমরা আমাদের পরবর্তী কাজের লিড পাব। প্রথম কাজটি সফল ভাবে শেষ করতে পারলে আমরা আমাদের পোর্টফলিওতে আমাদের এক্সপিরিয়েন্স যুক্ত করে দিব।

কিছু মার্কেটিং আইডিয়াঃ

ছোট কিংবা বড়, যে পর্যায়েই ঠাকই না কেন,  পরিচিতিটা আমাদের জন্যে অনেক বড় একটা ব্যাপার। পরিচিতির মাধ্যমেই আমাদের সাইটে ট্রাফিক আসবে। এবং আমাদের সার্ভিস সম্পর্কে দরনা পাবে। এতে করে ক্লাইন্ট পাওয়ার চান্স আরও বেরে যাবে।

ফ্রিলেন্স বিজনেসের মার্কেটিং এর জন্যে  প্রথমত আমাদেরকে আমাদের টার্গেট মার্কেট খুঁজে নিতে হবে। যেহেতু  সেখান থেকেই আমাদের ক্লাইন্ট আসবে। সেখানে আমাদের মার্কেটিং ম্যথড গুলি আপ্লাই করতে হবে।

ফ্রিলেন্স বিজনেস মার্কেটিং এর অগণিত উপায় আছে। এটা আমাদের জন্যে একটা সুজুগ সেখানে আমরা আমাদের নিজস্ব ক্রিয়েটিভিটি টুলে ধরতে পারি। আমি আমার আর্টিকেলে  কিছু মার্কেটিং আইডিয়া আলোচনা করবো, সেখান থেকে যেকোন একটা পিক করতে পারেন।

মৌখিক বা লিখিত সুপারিশঃ

মনে রাখতে হবে একজন ফ্রিলেন্সার সার্ভিস প্রোভাইডারের জন্য মৌখিক সুপারিশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগের পর্বে বলেছিলাম, ফ্যামিলি, বন্ধু, পূর্ব পরিচিতদের সাথে আমাদের সার্ভিস সম্পর্কে আলোচনা করার কথা। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমারা যথা সম্ভব্য চেষ্টা করবো আমাদের সম্ভাব্য ক্লাইন্ট পর্যন্ত আমাদের সার্ভিস ডিটেইল পৌঁছে দিতে, সেটা যেকোন মাধ্যমে।

র‍্যাফারাল হিসেবে আমারা আমাদের নেটওয়ার্ক এবং নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারি। এবং র‍্যাফারাল অফার হিসেবে ১০% ছাড়ের ব্যাবস্থাও রাখতে পারি।

ক্লাইন্টের সাথে সম্পর্কঃ 

আমরা হয়তবা অনেক ধরনের ক্লাইন্টের সাথে কাজ করবো। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমরা সব সময় আমাদের পূর্বের ক্লাইন্টদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবো এবং আমাদের সার্ভিসের আপডেট সম্পর্কে তাদের অবগত করবো। এবং যদি অন্য কেউ সেইম সার্ভিস চায় তাহলে আমাদের রিকমেন্ড করতে বলবো।

[পরের পর্বে আলোচনা করবো শেল্ফ মার্কেটিং নিয়ে … ]

6 thoughts on “মার্কেটপ্লেসের বাইরে ফ্রিলেন্স ক্যারিয়ার … (পর্ব – ২)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *